বহ্নিশিখার চারটি কবিতা--
তুমি আসবে বলে"
তুমি আসবে বলে,
কৃষ্ণচূড়ার লালে লাল হয়েছিল হরিৎ বনভূমি,
উদ্বেল হয়েছিল ঘনসবুজ অহমিকায়।
তুমি আসবে বলে -
অস্ত যায় নি সূর্য, অপার নদীর ঢেউয়ে সাজিয়েছিল চূড়া,
গোধূলির আভরণে কমলা শাড়ি জড়িয়েছিল প্রকৃতি। চৈতী ফুলের মালায় সেজেছিল ঈশানকোণের ওই মেঘ বরণ চুল।
তুমি এলে এই আনন্দ ভূৃমি হয়ে ওঠতো স্বর্গের ঈর্ষণীয়। তুমি এলে ফুলে ফলে ছেয়ে যেতো জীবনের এই বন্ধ্যা বাগান--
হয়ে ওঠতো স্বর্গেরও ঈর্ষণীয়।
----------
আজও কি মনে পড়ে'
কষ্টেরা অন্ধকারে আশ্রয় নেয়,
নিরিবিলি সময় কাটাতে,
চেনা গন্ধের স্বাদ, অকৃত্রিম স্বপ্ন, হৃদয়ের করিডোরে থেকে যায়,
বুকের বাঁ পাশে আজও সেই পুরোনো টিনের ঘর-বাড়ি। দিন যায়, রাত আসে, দিন যায়, রাত আসে,
শুধু জানা হয় না কেমন আছো।
------
খুব জানতে ইচ্ছে করে'
তুমি এখন কি করছো খুব জানতে ইচ্ছে করে।
একাকী ছাদের কিনারে দাঁড়িয়ে রেলিং এ রেখে হাত -- উদাস মনে ভাবছো যাকে বিরহির মতো,
বলেছে কি কথা একাদশীর চাঁদ?
আলোকিত চাঁদনীর মেখেছো কি জ্যোছনা?
মিলেছো কি অমরাবতীর সাথে তারাদের ভিড়ে? দেখেছো কি-সে বিস্ময় !
মেঘগুলো যাচ্ছে ওড়ে চাঁদের জলসা ছেড়ে।
খুব জানতে ইচ্ছে করে।
-------
ভালোবাসতে ইচ্ছে করে'
তোমার অপেক্ষায় বসে বসে মেঘ জমাইনি আকাশে, সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকি আকাশের নীচে মুষিকের মতো। অকর্মণ্যের তকমা থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে চাই বলে।
তুমিও থাকো না আমার অপেক্ষায়
বৃত্তের অবমাননা হোক চাও না বলে।
সকাল-সন্ধ্যা ভাতের খোঁজে
অন্যসব ভুলে থাকা তোমার স্বাভাবিক অভ্যেস।
ভালো না লাগার একমুহূর্তে তোমাকেই ভাবছিলাম, হয়তো তুমিও।
বলার মতো কোন কথা ছিলো না, তবুও ফোনে জানতে চাও-কেমন আছি,
এই এক দু'টো কথাতে আমি খুশি হই,
বেঁচে থাকার ইচ্ছে আয়ু খানিক বেড়ে যায়।
সেই ভালো লাগাটুকু আমরা মনের দেয়ালে রেখে দিই খুব যত্ন করে।
ভালোবাসতে ইচ্ছে হয় অনন্তকাল।
আমার মতো তোমারও কি ইচ্ছে হয়?
-------
সম্পাদকীয়--
সম্পাদকীয়--
কবিতার ভাবনা বুঝি প্রকৃতির মাঝেই নিহিত থাকে--বস্তুত প্রকৃতিই সমস্ত জগতের প্রাণ ধারক। ঠিক তেমনি কবিতার অস্তিত্ব ও সর্বত্র বিরাজমান--কবিতা কোথায় নেই ? মনে-আনমনে কাগজে-কলমে ভাবনায় স্বপ্নে প্রেমে-বিরহে পাতা ঝরার শব্দে, নব কিশলয়ে--এমন কি তোমার আমার হিংস্রতায়, হত্যার রক্তাক্ত ছুরিকায়, বিচারে, সুখে-দুঃখে, ঘৃণায় কবিতা চাষ হয়ে যাচ্ছে কবিকুলের হাত ধরে। বলতে গেলে জীবনের সর্বত্র কবিতার বীজ ছড়িয়ে আছে। প্রকাশে অব্যক্ততায় প্রতি ব্যক্তির ভাবনায় কবিতা ধরা থাকে--তা কখনো প্রকাশিত হয় অথবা একান্ততা নিজস্বতায় তা বুকের গভীরে মনন পললে ফুটে ওঠে।
আবার আমরা ব্যক্ত প্রকাশের মানসিকতায় কলম তুলে নিই। কাগজে লিখে যাই। কবিতা নিজের মনের উদিত ভাবনাকে ধরে রাখি কলম বন্দে, ধরে রাখি কাগজের পৃষ্ঠায়।
নিজের ভাবনাগুলিকে স্বতঃস্ফূর্ত করতে কবিতা যেমন আমরা কাগজে-কলমে ধরে রাখি তেমনি আমরা চাই তার প্রচার প্রসার মাধ্যমও। আমার প্রিয় বা প্রিয়জনেরা আমার লেখা পড়ুক , আমার মনের ভাবইচ্ছা প্রকাশ জানতে পারুক এটাই আমাদের কাম্য। আমার লেখার উৎকর্ষতা বিচারে পাঠকবর্গর দান অপরিসীম। তাদের মাধ্যমে ভালো মন্দের বিচারে আমি পরিচিত হয়ে নিজেকে মর্জির পরিমার্জিত করতে পারি। কবি নামায় আখ্যায়িত হতে পারি। আমাদের কবিভাবনার সবাই গুণমুগ্ধ হোক--এ চাওয়া কবিমনের বড় তৃষ্ণা।
ব্যক্তিজীবনে আমরা কিন্তু সবাই কবি। কৈশোর যৌবন কালে কবি ভাবনা আমাদের মনকে আপ্লুত করে। কাগজ কলমের সংস্পর্শে এসে দু চার লাইন কবিতা আমরা সবাই লিখে ফেলি। ফুটপাতের জরাজীর্ণ মানুষগুলো কোন ক্ষণ- মুহূর্তে চাঁদের দিকে, সূর্যোদয় সূর্যাস্তের সৌন্দর্য দিকে দৃষ্টি রাখে। তারাও খানিক আচমক বিমুগ্ধ হয়ে ওঠে। আর তারপরই ধরতে পারে তাদের পেটের ক্ষুধার যন্ত্রণা কথা।
এ সব কবিতা কবিভাবনা নিয়েই আমাদের কবিতা পত্রিকা স্বরধ্বনি প্রতি দুমাসে প্রকাশিত হয়। এখানে ঘটে নবীন-প্রবীণ কবিদের সম্মেলন। তাঁদের ভাব ভাবনা স্বপ্ন অভিজ্ঞতা নিয়ে ভরে ওঠে পত্রিকার পৃষ্ঠা। বেশকিছু স্বনামধন্য কবিকে স্বরধ্বনি পত্রিকায় পেয়ে আমরা সত্যিই গর্বিত।
সমস্ত প্রাচীন অর্বাচীন সব রকম কবি ভাবনার ভালো মন্দের বিচারক তো আপনারা। পাঠকবর্গের কাছে আমাদের সনির্বন্ধ অনুরোধ, আপনারা আমাদের পত্রিকা পড়ুন, ভালো মন্দ নিরপেক্ষ বিচারের মাধ্যমে আমাদের পত্রিকা হয়ে উঠুক উন্নততর মানের। মনের এই কামনা নিয়ে আজের সম্পাদকীয় কলম এখানেই ইতি টানছি। ধন্যবাদ-- সম্পাদক, তাপসকিরণ রায়।
সহ-সম্পাদকের কলমে--
বিধাতার এক আশ্চর্য সৃষ্টি এই অপূর্ব সুন্দর প্রকৃতি । সুন্দর আর সুচারু বিন্যাসে সজ্জিত এই পৃথিবী, যেখানে যেমনটি হওয়া উচিত ঠিক তেমনি ভাবেই সাজানো । প্রকৃতির সাথে মিলেমিশে আছে জীবকুল। মানুষ এই প্রকৃতির মাঝে নিজেকে সাজিয়ে নেয় প্রকৃতির অংশ হিসেবে । পান করে প্রকৃতির আশ্চর্য, অপরূপ নৈসর্গিক শোভা । জীবনের পরতে পরতে আত্মীকরণ ঘটে । তার উপলব্ধির পাল্লা বড়ো কম নয় ! আত্মোপলদ্ধির বহিঃপ্রকাশ হিসাবে লিখিত রূপে জন্ম নেয় গল্প কবিতা আরো কত কিছুই।
ঠিক যেমনটি হয়ে ছিল আদি কবি বাল্মীকির ক্ষেত্রে। মৈথুনরত ক্রৌঞ্চযুগলের পুরুষ ক্রৌঞ্চটিকে ব্যাধ কতৃক নিহত হতে দেখে ক্রুদ্ধ বাল্মীকির মুখ থেকে অভিশাপ বাণীর আকারে উচ্চারিত হয় সৃষ্টির প্রথম শ্লোক :
মা নিষাদ প্রতিষ্ঠাং ত্বমগমঃ শাশ্বতীঃ সমাঃ।
যৎ ক্রৌঞ্চমিথুনাদেকমবধীঃ কামমোহিতম্।।[৯]।
--সাবিত্রী দাস, সহ-সম্পাদিকা।
Wednesday, 31 March 2021
বহ্নিশিখার চারটি কবিতা
মহুয়া বিশ্বাস
------: নারী :------
মহুয়া বিশ্বাস
নারী মানে প্রথমেই আসে মা
স্নেহের নেই যে তুলনা।
নারী প্রেয়সী....নারী শ্রেয়সী
নারী কোমল কমলিনী।
নারী মানে অভয়াশক্তি
নারী মানে মাতৃভক্তি ;
নারী মানে স্নেহছায়াতল,
নারী মানে দৃঢ় মনোবল।
নারী মানে নয় বিদ্রুপ কটাক্ষ
নারী মানে সুবিশাল বটবৃক্ষ ।
নারী মানে মহাব্যাপ্তি.....
আছে অযাচিত প্রাপ্তি....!
নারী মানে কবিতার ছন্দ....
নারী মানে নয় তো মন্দ ।
নারী ফুলের মতই পবিত্র
কখনো হয় না কলুষিত...
নারী কবিতার প্রথম চরিত্র
নারী. মানে..কবির কবিত্ব ।
নারী জলের মত স্বচ্ছ....
ঢেউ- এর মতই শুভ্র ।
নারী মানে ধৈর্য্য, ক্ষমাশীল---
নারী মানে আনন্দ অনাবিল।
নারী মানে নয় অশ্লীলতা....
নারী মানে নয় উপেক্ষিতা
নারী মানে সুসম্মানে ভূষিতা।
নারী সুসন্তানের মাতা
নও তো লাঞ্ছিতা----
যুগে যুগে হও গর্বিতা।
নারী মানে দানব বিনাশিনী
ভয়ঙ্কর স্বরূপিনী।
নারী মানে প্রতিবাদী মুখ
নারী মানে মায়াভরা সুখ
নারী আনে আলোর বন্যা
নারী সবার মাঝে অনন্যা।
নারী মানে আন্তরিক...
ভালোবাসার প্রতীক।
নারী নয় ভোগ্যদ্রব্য...
নারী জ্বলন্ত এক চরিত্র।
নারী আলোর দিশারী
নয় তো অন্ধকার রাত্রি…
নারী জননী জন্মদাত্রী।।
মাথুর দাস
জয় পরাজয়
মাথুর দাস
জিতেন মামা জিতে সব ম্যাচ, হারাণ কাকা হারে ;
কেমন করে হয় যে এ সব বলতে কি কেউ পারে ?
যেমন দেখি সেদিন ম্যাচে জিতেন মামার দল
হারছিল যে গোহারা বেশ, ফেলছিল ক্যাচ বল ।
জিতেন মামা পকেটে গোঁজে লাল ফুলটি যেই,
হারাণ কাকার ব্যাটসম্যানরা হারালো খেলার খেই ।
'বসে বসে হয়রান, কুড়ি বলে ছয় রান' !
কাকার মাথা টগবগ, হল বুঝি খান্ খান্ ।
'তুড়ি মেরে ভাঙো জুড়ি, ওরা জয় পাবে থুড়ি' !
মামা হাঁকে, 'জিতবই, ওড়াবই সাদা ঘুড়ি' ।
ঠিক তাই, মামার জোরেই জিতল মামা ;
বাজল ভেরী, চড়ল গায়ে রঙীন জামা ।
সঙ্গীন সে ম্যাচ হেরে শেষে
মুখে মলিন হাসিটি হেসে
হারাণ কাকা বললো তেতে,
'কেনা ম্যাচ কে না জেতে' !
*****
সান্ত্বনা চ্যাটার্জীর দুটি কবিতা
সান্ত্বনা চ্যাটার্জীর দুটি কবিতা--
নিজের কথা-নিজের সাথে
(১)
অনেক বছর পাড় করে অনেকটা সময় ধরে,
মনে রাখা কষ্ট গুলো বড় ব্যাথা পায়।
কেন রেখেছ মনে;
কেন ছাড়োনি আমায় বিস্মরণের হাতে!
কিছু কি পেয়েছ তুমি বলো তো আমায়,
তবে কেন সযত্নে পালন কর,
অন্ধকার তমসায় পূতি গন্ধময় নরকের অন্ধকারে।
ছেড়ে দাও ছেড়ে দাও যেতে দাও আমায়।
যেতে দিতাম তোকে রাখিনি তো মনে,
কোনও কোনও মানুষের কাছে,
আকাঙ্খিত পাওয়া -না চাইতেই অনেক অনেক,
ভালো কথা রঙিন মোড়োকে মোড়া,
তখনই আবার বিদ্রূপের হাসি,
আঘাত করে হৃদয়ের দরজায়।
কেন কেউ খেলা করে অপরের বিশ্বাস নিয়ে!
কি আনন্দ পায়!
আর তখনই তোদের কথা মনে পড়ে,
নিম তিত- উপহার যখন আসে অযাচিত,
অবজ্ঞার সাথে ভীষণ আঘাতে
তোকে মনে পড়ে যায়।।
(২)
যেদিন তোমার চোখে লালসা দেখেছিলাম ;
ঘৃণায় অন্তর পুড়ে ছাই !
এর পর মাঝে মাঝে
কারনে অকারনে
তোমার চোখের দিকে দৃষ্টি চলে যায় ।
কে তুমি ! দেখিনি তো আগে ।
কেন আস বারে বার ,
সবার অলক্ষে
আমার প্রতিটি কোষে আগুন ছড়াও ।
এত গুলি বছরের এত গুলি রাত ,
কেটে গেছে শুদ্ধতায় স্নান করে করে ।
দেবতার চরণতলে করে প্রনিপাত ।
আজ কেন ঘোমটায় নাচ !
কেন প্রাণ আনচান ,
কেন মন বলে –
বৃথা আমার জীবন ।
আমার নিজের ছায়া
তোমাতে দেখেছি ,
তুমি আমার আধার ।
ছোটো ছোট ঢেউ যেন
সাগরের গায় –
আমি তোমাতে হারাব আজ
শেষ শুদ্ধতায় ।
প্রেরণা বড়াল
ছোট্ট পাখি
------------------
প্রেরণা বড়াল
একদা এক ছোট্ট পাখি
নুতন পাখায়
নুতন দিশায়
ভরল উড়ান দেখাদেখি।।
জানত না তার ঠিকানা কি
সাথের সাথী
চলছে সাথ ই
পরিণতি জানত সে কি?
হয়ত কিছু আছে ভালো
মনের কোনে
স্বপ্ন বোনে
জ্বলছে মনে আশার আলো।।
হঠাত বড় তুফান এলো
পথ হারিয়ে
সাথ হারিয়ে
ভাবে সে কোন দেশে এলো।।
যা কিছু হয় তাহাই ভাল
বিধির বিধান
আছে লিখান
তবেই সাধের বাগান পেল।।
মনের সুখে দিন সে কাটায়
নুতন শাখায়
নুতন পাতায়
নুতন সাথির গান যে সে গায়।।
ডাঃ অরুণ চট্টোপাধ্যায়ের দুটি কবিতা--
ডাঃ অরুণ চট্টোপাধ্যায়ের দুটি কবিতা--
মলয় সমীরে এনেছে বারতা
বসন্ত এসেছে দুয়ারে,
এস এস সব করে কলরব
মেতে ওঠ এই প্রহরে।
আকাশ বাতাস লালে লাল শুধু
বুক করে দুরু দুরু,
আকাশের বুকে সাদা মেঘ ভাসে
মন করে উড়ু উড়ু।
পলাশের ডালে পাতার আড়ালে
কোকিলের কুহুতান,
আবেগের স্রোত বহিতেছে দ্রুত
গায় যে প্রেমের গান।
সবুজের বনে সমীরের খেলা
কৃষ্ণচূড়া খায় দোল,
প্রকৃতির মাঝে শিমুলের শোভা
মনে তাই হিল্লোল।
আগুন ছুটেছে বনে বনে ওই
মনে মনে পাই আঁচ,
এসেছে বসন্ত হেসেছে প্রকৃতি
এঁকেছে মিলনের ছাঁচ।
আশা আর প্রাপ্তি
আশা কমিয়ে রাখ
প্রাপ্তি বেড়ে যাবে,
আশংকা কমিয়ে রাখ
সুপ্তি বেড়ে যাবে।
Tuesday, 30 March 2021
অভিজিৎ দাসকর্মকার
#ডারপোক তাকিয়ে
অভিজিৎ দাসকর্মকার
---আচ্ছা আমি কী যতই গভীর কথা বলবো,ততই
খয়েরি হয়ে যাবো?আর
লু
রাতের বেয়াড়া বোতাম
সন্ধ্যের চকনাচুর পাউডার, একসঙ্গে
ডিনার কমপ্লিট করেবে!তাহলে
কোলেস্টেরল প্রবাহে দুপুর দাগের ওষুধ,কুলুকুলু বয়ে রাতের বোকামি হয়ে ফুটে উঠবে;তবে
আমি আর,আর ১টি চরিত্র বিছানার চাদরে ঢেকে নিয়েছি নিজেদের তামাশা
অভিনয়ের পর অভিনয়,এবং
রুমটিও ধীরে ধীরে কন্ট্রোলহীন হয়ে পড়েছে, দেয়ালের কোনায় হিট উঠেছে,আর
ম্যালেরিয়া গড়িয়ে পড়ছে লোমকূপ থেকে,পা টিপে টিপে
কখন স্বপ্নগুলো জেগে গেছে,ওরা আজও
তন কি বদবু দূর দূর তক্ সহ্য করতে পারে না,
আসলে একটু u-turn নিয়েই জামার কলার উলটে নিই,আর অন্ধকার
নাসারন্ধ্রের মেন্টাল ডিসট্যান্সে রাস্কেল এবং হলুদ হয়ে পড়ে,আমি ইক লওতা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে,আড়ালের নামে ডারপোক তাকিয়ে চোখের ধ্যাস্টামো গিলছি___
সোমনাথ বেনিয়া
শেষ / সোমনাথ বেনিয়া
কেন দাঁড়িয়ে আছে
মাটি ভেঙে উঠে আসছে প্রশ্নচিহ্ন
ঘাসের গায়ে মেঠো ইঁদুরের আঁচড়, অভিমান
অবশ্য বাতাসের হলকা অনতিদূরে কবরের কথা বলে
কার প্রিয়তমা
সবার প্রিয়তমা তাজমহলের প্রিয় হতে চায়
ক্যালেন্ডারের শরীরে শুধু বসন্তকাল পড়ে থাকে
এই পরিবেশ মধুময়
তবে মুখের চারপাশে গনগনে আগুনের আঁচ কেন
ঘুমাতে পারোনি সে ঘুম, শেষ ...
তমা কর্মকার
শিলালিপির রঙ বদল
তমা কর্মকার
একদিন যারা করেছিল কোমল অন্তরটাকে
অস্ত্রাঘাতে ক্ষত বিক্ষত,
ধমনীর সমস্ত রক্তনদীর বয়ে যাওয়া রক্তকে করেছিল
রক্তিম একপ্রস্তর খন্ডে পরিণত।
এখানেই থেমে থাকেনি তারা , শিলা খন্ডের রঙ রূপের বাহারকে
কুটিল কৌটিল্য কালিমায় নির্দ্বিধায় করেছিল কলুষিত।
তোমার মনুষত্ব দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছো তুমি,
না তারা পারেনি তাদের উদ্দেশ্য সফল করতে
তাই আজ তারা নিজেদের গিরগিটির স্বভাবের মত,
আজ শিলালিপির রঙ বদলাতে ব্যস্ত।
যে অহল্যা একদিন মুনির অভিশাপে হয়েছিল
একটি শীতল শিলালিপিতে পরিণত|
আজ সে রামের পাদস্পর্শে মুক্ত,
তবুও সীতা হয়েছিল সতীত্বের পরীক্ষায় রামের কাছে অপমানিত,
হয়ে ছিল লেখা রামায়ণে নারীর লজ্জা উন্মোচনের গল্পগাঁথা।
সীতা থেকে মন্দোদরী , মন্দোদরী থেকে শূর্পণখা,
আজও তারা সবাই কাঁদে নিরালায় নিভৃতে।
সেই দিন বসুমাতা হেসেছিল
যেই দিন, আপনপুত্রী জানকীকে ফেরত পেয়েছিল আপনক্রোড়ে ।
রাই কেঁদেছিল শ্যামকে ভালোবেসে,
ননী গোপালের কান্ডদেখে জগৎ সংসার উঠেছিল হেসে।
তবু আজও শিলালিপির রঙ বদল হয়,
শিলালিপির গায়ে লেপন হয় নানা রকম কেচ্ছা কালিমায়।
অগ্নিশ্বর সরকার
আইসক্রিম
অগ্নিশ্বর সরকার
জ্যৈষ্ঠের ঝাঁঝালো দুপুরে
এক মনে, গাড়ি ঠেলে ফেরি করো-
লাল, হলুদ, সাদা
আরও কত রঙ,
কত মনমোহিত করা গন্ধ।
একমনে ঘণ্টা বাজিয়ে ফেরি করে চলেছো-
রাস্তার ভাপ, রাস্তার অবজ্ঞাকে
ঘামের সাথে মুছে নিয়ে-
ঘণ্টা বাজিয়ে একমনে ফেরি করছো
কত আহ্লাদকে।
ঘর্মাক্ত পথচারীকে এক চিলতে শান্তি দিচ্ছো,
একটা ঠাণ্ডা আইসক্রিম বেচে কত লাভ হয়?
হয়তো এক-টাকা বা দু-টাকা!
এতো কষ্টের দাম কি মেলে?
তবুও হাসি মুখে, একমনে-
ফেরি করে বেড়াও এপাড়া-ওপাড়া
আইসক্রিম নেবে গো--আইসক্রিম।
Saturday, 27 March 2021
বীরেন্দ্র নাথ মন্ডল
কবিতা তোমার
বীরেন্দ্র নাথ মন্ডল
আমি কেন আজ রাতে হাসলাম,
কোন শব্দ তা বলবে না।
ভগবান তো না--অশরীরী কোন মায়া
স্বর্গ নরক হতে হয় তো আসবে উত্তর--
হঠাৎ আমার হৃদয়ের দিকে তাকালাম l
হৃদয় এখানে আমি দুঃখী ও একা
আমি কেন হাসলাম ও আমার ব্যথার সাথী,
অন্ধকারে শুধু আমার গোঙানোর শব্দ হতে লাগলো
স্বর্গ-নরক ও হৃদয়কে জিজ্ঞাসা করা বৃথা।
আমি কেন হাসলাম--আমি জানি এটা ধার নেওয়া,
আমার কল্পনার পাখা শুধু বিস্তারিত হয়--
আমি কি এই মধ্যরাতে হাসিটাকে ঝেড়ে ফেলতে পারি ?
কবিতা যশ ও সন্দর্য অন্তর্নিহিত প্রকৃতি,
জীবন দুর্নিবার মৃত্যুর হার জীবনের কাছে বারবার।
হিমাদ্রি বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুটি কবিতা
হিমাদ্রি বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুটি কবিতা-- থেকে যেতে চাই আমাকে না পারো তো রেখো না কোথাও। থেকে যেতে সকলেই চায় উৎসবে উপহারে অথবা বর্ষণে খরায়। তে...
-
ঊশ্রী মন্ডলের তিনটি কবিতা--- সবুজ পৃথিবীতে আমি বাঁচতে চাই ফাগুনের রঙে রাঙিয়ে... আমি এক সুন্দর প্রজাপতি হয়ে মনের আনন্দে... উড়ে বেড়া...
-
তাপসকিরণ রায়ের দুটি কবিতা-- কবির ছায়া দুটি ভাবনার সবটুকু এক হতে পারে না-- বয়স ভারাক্রান্ত কবি আজ উদাসীন তার এলো চুল উড়ু উড়ু বৈশাখী ঝড়ে ...
-
বিষন্নতা নেই আর -------------------------- তীর্থঙ্কর মৈত্র মাটির উনুন 'পরে ছড়িয়ে রয়েছে ঝরাপাতা সেগুন ছায়ার নিচে ;সবুজ রঙের যেন ছ...
