তাপসকিরণ রায়ের দুটি কবিতা--
কবির ছায়া
দুটি ভাবনার সবটুকু এক হতে পারে না--
বয়স ভারাক্রান্ত কবি আজ উদাসীন
তার এলো চুল উড়ু উড়ু
বৈশাখী ঝড়ে কবির ছায়া কেঁপে কেঁপে ওঠে
আতঙ্কিত কবি তখন সজ্ঞাহীন।
সজ্ঞা ফিরে এলে সে মৃত্যুর কবিতা লেখে--
নিভু প্রায় আগুনচোখে তখনও তার ফসফরাস জ্বলে
ঢেউগুলি তীরে তীরে আছড়ে পড়ে,
বালির ভাজে আঁকিবুকি লেখা পড়ে।
কলম নিথর হলেও কবি তার কবিতা উগলে দেয়
অম্লপিত্ত বমনের এক ঝাঁক শব্দের রণন উঠে আসে
আর সে সব নিথর শব্দ নিয়ে কবি তার কবিতা লিখে যায়।
সুখস্মৃতির কবিতা, ক্রমশ নিষ্ক্রিয়তার অনুভবে
আকাশে কবির ফ্যাকাশে ছায়াকাঁপ পড়ে।
সমর্পণ
দীর্ঘক্ষণ কোথাও আটক থাকে না মন--
বাঁধ ছাড়িয়ে উঠে আসে সমর্পন।
কখনো স্পর্শকাতর ভালবাসা পাখির আকাশ হয়ে যায়।
আঁধারে যে আছে, কখনও সে আলোকিত হয়,
তোমার উজ্জ্বল প্রেমিকার ওপরে তখন ছায়া পড়ে থাকে,
আর একবার দেখো,
একঘর অনিবার যাত্রার পথে যাযাবর পাখিমন
পিচ্ছিল শ্যাওলা ঘ্রাণের আদিম স্রোতের
সবুজ পিঠ উল্টে পাল্টে তোমার মধ্যে থেকে
আমি ক্রমাগত সমর্পন খুঁজে ফিরি।
No comments:
Post a Comment