ঊশ্রী মন্ডলের তিনটি কবিতা---
সবুজ পৃথিবীতে আমি বাঁচতে চাই
ফাগুনের রঙে রাঙিয়ে...
আমি এক সুন্দর প্রজাপতি হয়ে মনের আনন্দে...
উড়ে বেড়াতাম |
খুব সুন্দর ছিলো সেই দিন গুলো |
জানো গো...
ফুলে মধু ছিলো না,
বয়ে চলা বাতাসের ভালোবাসা ছিলো না ;
তবুও এইটাই আমার জীবন...
এটা ভেবেই সুখি ছিলাম l
এখন অনভ্যাসের দাসত্বে...
আমি নিজেকে বন্দি করে ফেলেছি ,
সহজলভ্য হওয়ার জন্যই যা চাহিদা করি...
তা অনায়েসেই পেয়ে যাই |
তাই বোধহয় আর পিছন ফিরে তাকাই না |
যখন বুঝতে পারি...
তখন দেখি অনেক দেরী হয়ে গেছে ,
হিসেব নিকেশ করে দেখি ;
জীবনের খাতা শূন্য l
অসীম শুন্যতা নিয়ে এক কারাগারে বন্দি হয়ে আছি..
সেই শুন্যতায় কারোর অস্তিত্ব নেই ,
আমি এখনো একা , ভীষণ একা |
ভেবেছিলাম...
এবার ঠিক পাশা খেলায় বাজিমাত করে ফেলবো ,
কিন্তু না...
আবারও হেরে গেলাম l
আবারও শুরু করেছি আরম্ভ , সেই খেলা l
জানিনা শেষ করবো কি ভাবে ?
তবে আরেকবার চেষ্টা করে দেখি না ..
যদি আমার পৃথিবীটা আরেকটু সবুজ হয় ll
প্রেম
তুমি তোমার দুই হাত...
আমার দিকে বাড়িয়ে বলেছিলে -
আমায় ভালোবাসো ,
তোমার সর্বস্ব নিয়ে আমি যেন তোমায় গ্রহণ করি,
কিন্তু বলোতো আমা হতে তুমি কি চাও ?
আমি জানি...
তুমি বিষয়াদি সম্পন্ন ইন্দ্রিয়গুলো চাও,
যেগুলো প্রতিনিয়ত ভুল পথের নির্দেশ দেয় |
কান শুধু শব্দকে শোনে ,
নাক কেবলই গন্ধেরই সাক্ষী হয়ে থাকে ,
এই জিভ কেবলই স্বাদকে গ্রহণ করে ,
এই চামড়া শুধু স্পর্শের জন্যই কাতর থাকে ,
আর চক্ষু শুধু মানুষের উপরিস্থ রূপই দেখে |
জানোগো...
এই ইন্দ্রিয়গুলি ক্ষনে ক্ষনে শুধু বদলে যায় -
তাদেরই ইচ্ছা ও শর্ত অনুযায়ী ,
তাই আমি বিশ্বাস করি...
ইন্দ্রিয় সুখ শ্বাসত ভালোবাসা নয় ;
এরা মনকে...
অসারতা,অস্তিরতা ও দুঃখের সাগরে নিমজ্জিত করে |
এই দেহ নশ্বর, একি তুমি জানো না ?
তবুও এই আমার নশ্বর দেহটাকে -
তুমি তোমার আত্মা ভেবে ..
ইন্দ্রিয় দ্বারা ইন্দ্রিয়াদীর..
চরম আনন্দে মেতে উঠতে চাইছো ?
অথচ ..
এই শরীরের পরেও এক আলোকময় -
অবিনশ্বর আত্মা আছে তাকি ভুলে গেছো ?
এই দেহ চলে যাবে ,
চলে যাবে সব চাহিদা কামনা বাসনা ;
যার কোনো অস্তিত্বই থাকবে না l
শুধু থাকবে ...
এই অবিনশ্বর আত্মার সত্ত্বা,
সর্বব্যাপী, যা চিরকালীন, পূর্ণানন্দঘন l
পারবে কি সেই আত্মাকে ভালোবাসতে ?
যদি পারো ...
তাহলে আমার এই হাতটা ধরো ,
চলো এগিয়ে চলি ...
ঐ আনন্দরুপী আলোর দিকে ll
গন্ধবহের রঙ্গ
আজ শুধু নিদ্রাহীনতা...
আমার এই দুটো নয়নকে অধিকার করে নিয়েছে,
জানিনা কার জন্য এই ভাবে অসার হয়ে থাকা ?
খোলা জানালা দিয়ে...
বাইরে দৃষ্টি মেললাম ,
দেখি পেঁজা তুলোর মতো মেঘেরা ...
আমারই মতো জেগে আছে ;
ঐ চন্দ্র ও নক্ষত্রর সাথে...
এক লুকোচুরি খেলায় মেতে উঠেছে |
জানিনা কোথা থেকে...
এক পশলা বৃষ্টি ঝির ঝির করে ঝরে পড়লো ,
ভিজিয়ে দিলো পাতার আড়ালে...
লুকিয়ে থাকা প্রসূনদের ;
জলেসিক্ত হাল্কা হাল্কা শীতল সমীরণের স্পর্শে ...
তারা কেঁপে কেঁপে উঠছিলো ||
ঘন বিস্তীর্ণ বিশাল নীলাকার মহাশূন্য ছিলো...
মৌন শাস্ত্রজ্ঞ মুনির ন্যায় ধ্যানমুদ্রায় তপস্যামগ্ন ,
ঐ বৃষ্টি অনিলের সাথে মিলে ;
ঐ তপস্বীর করলো তপস্যাভঙ্গ ||
তাই আমারই মতো ঐ ব্রতধারীও ...
পরম কৌতুকে দেখছে ,
চঞ্চল গন্ধবহের রঙ্গ ll
No comments:
Post a Comment