ইন্দ্রাণী বন্দ্যোপাধ্যায়ের একগুচ্ছ কবিতা--
১আমি বুনোফুল
তোমাদের সাজানো বাগানে
কতশত ফুল।
কত বাহারি নাম সব।
চঞ্চলা অধীরা চপলা
রাজকীয় আড়ম্বরে
থরহরি কম্প।
তোমরা ওদের গুণগানে
পাগলপারা।
লালিত্যে সুষমায়
বহুদূরগামী।
আমি অবজ্ঞার বুনোফুল
মাতাল সৌন্দর্য আমার
তবে স্পর্ধিত উচ্চারণে বলি
দিনদেব আমায় ভালোবাসে।
২উপন্যাস লেখা
এবার কবিতা নয়
উপন্যাস ধরেছি।
আউশধানের উপন্যাস।
ভূমিকা টানা শেষ।
বীজধান বপন করেছি
সবুজে সবুজ ধানে
বয়ে যাবে হাওয়া।
বৃষ্টি আদরে হবে প্রসবিনী।
আউশের সাথে পৌষে
হবে মাখামাখি।
কিষাণ কে পিঁড়ি পেতে দিয়ে
বাটি ভরে নবান্ন দেবে কিষাণী।
মেঠো আলপথে লক্ষ্মী আসে
মুখে তার হাসির ঝিলিক।
আউশধানের বৃদ্ধি হলে
শেষ হবে উপন্যাস লেখা।
৩কবিতা মানেই ভালোবাসা
জানি তুমি ভালোবাসো না
পৃথিবীর ভালোবাসা থেকে
অনেক অনেক দূরে আমি
তবু জেনো প্রিয়, তবু মনে রেখো
আমার সব কবিতা তোমাকে নিয়ে
কবিতা গুলো ফসিল হয়ে যাবে
আগামী পৃথিবীতে নিয়ে আসবে
সেইসব কাব্যিক উপমা।
কোনো এক কালে এক কবির
মনের গহীনে থাকা ভালোবাসা
ইতিহাস হবে আগামীর পাতায়।
সেইদিন আমার ভালোবাসা
ছড়িয়ে পড়বে আসমুদ্রহিমাচল।
মুঠো ভরে হৃদয়ে রেখে দেবে
আমার ভাবীকাল।
সেদিন আমাকে পাবে
পাবে পুড়ে খাক হয়ে যাওয়া
একটি কবির কবিতা
ইতিহাস হবে আগামীর পাতায়।
৪সব ঠিক হয়ে যাব
আকাশের ওই পারে
যেখানে অন্তিম অস্তরাগ
সেখানেই ভেসে ওঠে
তোমার হাসিমুখ।
ইশারায় বলে যাও
সব ঠিক হয়ে যাবে।
ওই কথা ঘুরে ফেরে
ধরিত্রীর অলিন্দে অলিন্দে।।
নীলকণ্ঠ হয়েছে বসুন্ধরা।
বিষম জ্বালায়
ত্রাহি ত্রাহি রব।।
তবু ঝড় থেমে
শান্ত হবে প্রকৃতি।
প্রলয়ের পিছনে
থাকে উল্লাস।
চিরসুন্দর গান গেয়ে বলে
সব ঠিক হয়ে যায়।
সব ঠিক হবেই।
৫ভালোবাসা
তবুও সাধনা ভালোবাসা
যেমন করে অসীম আশা
বুকের মধ্যে পুষে রাখে কৃষক।
ভাবে বসে একদিন ভরে যাবে
পৃথিবীর ধানের গোলা
ভালোবাসা তুমি এসো
নৈলে রাশি রাশি ফসল
কে আর ফলাতে পারে বলো ?
পাখিটার ছোট্ট বুকে থাকে
ওই যে অসীম আহ্বান।
অন্ধকার মুখে নিয়ে
নিয়ে আসে সামান্য খুদকুঁড়া।
সেখানেও তুমি থাকো
সন্ততিকে এনে দাও
নতুন জীবনের শক্তি।
ভালোবাসা তুমি আছো বলেই
পৃথিবীটা সুন্দর মনে হয় ।
No comments:
Post a Comment