শিলালিপির রঙ বদল
তমা কর্মকার
একদিন যারা করেছিল কোমল অন্তরটাকে
অস্ত্রাঘাতে ক্ষত বিক্ষত,
ধমনীর সমস্ত রক্তনদীর বয়ে যাওয়া রক্তকে করেছিল
রক্তিম একপ্রস্তর খন্ডে পরিণত।
এখানেই থেমে থাকেনি তারা , শিলা খন্ডের রঙ রূপের বাহারকে
কুটিল কৌটিল্য কালিমায় নির্দ্বিধায় করেছিল কলুষিত।
তোমার মনুষত্ব দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছো তুমি,
না তারা পারেনি তাদের উদ্দেশ্য সফল করতে
তাই আজ তারা নিজেদের গিরগিটির স্বভাবের মত,
আজ শিলালিপির রঙ বদলাতে ব্যস্ত।
যে অহল্যা একদিন মুনির অভিশাপে হয়েছিল
একটি শীতল শিলালিপিতে পরিণত|
আজ সে রামের পাদস্পর্শে মুক্ত,
তবুও সীতা হয়েছিল সতীত্বের পরীক্ষায় রামের কাছে অপমানিত,
হয়ে ছিল লেখা রামায়ণে নারীর লজ্জা উন্মোচনের গল্পগাঁথা।
সীতা থেকে মন্দোদরী , মন্দোদরী থেকে শূর্পণখা,
আজও তারা সবাই কাঁদে নিরালায় নিভৃতে।
সেই দিন বসুমাতা হেসেছিল
যেই দিন, আপনপুত্রী জানকীকে ফেরত পেয়েছিল আপনক্রোড়ে ।
রাই কেঁদেছিল শ্যামকে ভালোবেসে,
ননী গোপালের কান্ডদেখে জগৎ সংসার উঠেছিল হেসে।
তবু আজও শিলালিপির রঙ বদল হয়,
শিলালিপির গায়ে লেপন হয় নানা রকম কেচ্ছা কালিমায়।