শ্যামাপ্রসাদ সরকারের দুটি কবিতা--
রাই, শুনছ কি
.......................
জেগে আছ রাই !
অচেতন শয্যাপাশে তোমার
কখন থেকে একা দাঁড়িয়ে আছি!
তুমি তো স্বপ্নের মাঝে এখন
নিভিয়ে ফেলেছ অভীপ্সাগুলো
এখানেও সমানে শীত করে বলে
গায়ে টেনে নিয়েছ গরম চাদর।
রাই মনে পড়ে সেই কথাগুলো
অগুন্তিবার বলে যেতে তুমি
বোবা ছাদে কপট রোদেরা
এসে আল্পনা দিত তখন এমনিই।
তোমার হাঁটার পথেই আছে
কৃষ্ণচূড়ার ডালগুলো রক্তিম ফুলে।
ঝাউপাতাগুলো তোমার অদর্শনে
শুকিয়ে গিয়েছে ক্রমেই।
তুমি রাঁধ আজকাল?
বাজারেও যাও নাকি?
এত কিছু করে ফেলো অবলীলাভরে।
বড্ড হিসেবী তুমি এখন।
অপচয় করতেই ভুলে গেছ!
প্রতিটি সন্ধ্যা এসে চুপিচুপি বলে যায়
সেইসব গোপন কথাটা শুধুই
তুমি আর কবিতা বলনা মোটেও
তুমি বড় কঠিন হয়েছ নিজে নিজেই!
রাই তুমি, জান !
একলা তোমাকে জুড়েই
এখনো লিখতে পারি
অনর্গল কবিতার মত!
এলোমেলো অনেক কথারা
কার্ণিশে মেলে দিতে দিতে
এখনো জানলা জুড়ে রয়ে গেছে
তোমার নিঃশ্বাসে শ্বাস নেব বলে
গুছিয়ে রেখেছি শ্বাসবায়ু!
এখনো অসংখ্য কবিতা দিয়ে.
অভিমানের রাতপোষাক
বানাতেও পারি! অজস্রবার, আজও।
*****************
অসময়ে মনে পড়ে গেল রাই!
............................................
আজ অসময়ে মনে পড়ে গেল রাই!
আকাশের মেঘেরা ঠিক তোমার মতন!
তুমি কাশের বনে যেমন ছেলেমানুষ হয়ে ছুটতে
নীলাম্বরী মিলিয়ে যেত আদিগন্ত মাঠে
বৃক্ষবনে উতল হাওয়ায় তোমার এলোচুল
আর চরণের মঞ্জীর এক সাথে বাজত।
যে গাগরী নিয়ে জলের ধারে এসে
ভাসিয়ে দিতে সবটুকু তোমার অর্গল
রঙীন কাঁচের কঙ্কনগুলো ভাঙত ফেরার পথে
যেন আমার মুঠোয় ওদের টুকরো হওয়াই নিয়তি....
রাই এলোমেলো রোদ্দুরে তোমায় খুঁজতে গিয়ে
অনেকটা আয়ুষ্কালের অপচয় হয়ে গেল
সংসারের আঁচল বেঁধেছ পরিপাটী গ্রন্থিতে
তবুও যেন একটি মঞ্জীর তুলে রেখেছ অদম্য নৃত্যরঙ্গের অপেক্ষায়.....
রাই তোমাকে, সময়ে না পেয়ে অসময়ে খুঁজতে বসা,
তোমার মেঘের মত একঢাল চুলে বিদ্যূতের জিহ্বা
লেহন করছে বর্ষণক্লান্ত পুরুষ আকাশের নগ্নগাত্র!
রাই, যমুনার জল শুকিয়ে গেছে অশ্রুকোটরে কবেই
কাঁখের সেই সাধের কলসটিও আজ ছিদ্রযুক্ত পাত্র!
আকাশে একটুকরো কালো মেঘ আজ থাক শুধু
তোমার একটুকরো মনখারাপের শারদ উপহার হয়ে !!
No comments:
Post a Comment