নিরাপদ বিশ্বাসের একটি দীর্ঘ কবিতা--
তোমায় খুঁজি
তোমায় খুঁজি বারেবার
তুমি আছো কাছে পিঠে
হয়ে একাকার,
তবুও তুমি ধারার বাইরে
কাছে যেতে যেতে সরে যাও দূরে
কত রূপ রূপে সাজো
মনোহরা আঁখি আজো
ঘুরে মরে পলে পলে
তোমার এ বিশ্ব নিখিলে।
তোমায় খুঁজি নদী নীরে বালুচরে
নিশুতি জ্যোৎস্নায়,
বনতল ছুঁয়ে ছুঁয়ে
জলজ মধু বায়
তুমি আসো ভালোবাসো
চিরঞ্জীবী পরশ
ঘাসে ঘাসে শিশিরে
ফুল দল মিলিয়ে
অকাতরে সে গুন গায়,
তুমি হাসো জ্যোৎস্নায়।
কখনো বা নীল নীলিমায়
সুদূর নীহারিকায়
নিল লোহিত আলোর দেশে
তারারা খসে খসে
তারাদের সাথে মিশে যায়
নতুনের চেতনা নিয়ে
ভাঙা গড়ার একতানে
চিরন্তনী আবেশে
শব্দেরা কথা কয়।
সিন্ধু তীরে তীরে
তোমায় খুঁজি ফিরে ফিরে
ঢেউ উঠে দুলে দুলে
কি জানি সে পথ ভুলে
তীরে এসে মিশে যায়
অজানা কার ইশারায়
ঢেউ হতে ফিরে যায়
সিন্ধুর গভীরে
চিরকালের ছবি রে।
তোমায় খুঁজি শরতে
কচি কচি ধানক্ষেতে
সবুজের সীমানায়।
পাহাড়ি বনপথে
অপরূপা ঝরনায়,
শিউলি ফুল দলে
সোহাগে কি কথা বলে
আবেগে ভেসে চলে
হৃদয়ের বন্যায়।
কাশফুল দুলে দুলে
আগমনী সুর তুলে
হিমেল হাওয়ায় নেচে ওঠে
ভেসে যেতে বিজয়ায়
তোমারি সে ছোঁয়া পায়।
হেমন্তের গোধূলি
সোনা ঢালা বিলকুলিই
প্রাণমন নেচে যায়
থির থিরে হিম হাওয়ায়,
পাখিদের পালোকে
নীড়ে ফেরার ঝলকে
ধীরে এসে সন্ধ্যা
আকাশে উঁকি দেয়,
চাষীদের ক্ষেতে রে
গানে ওঠে মেতে রে
ভাটিয়ালি বাউল
মুখরিত সন্ধ্যায়
ধান কেটে গৃহে যায়
ভুলে দুখ চির সুখ
অধর মুক্তায়।
তারপর চেয়ে দেখি
তুমি আছো দাঁড়িয়ে একি
আমাদেরই আঙিনায়,
সন্ধার দীপ হাতে
সিঁদুরের আভাতে
লাল পেড়ে শাড়িতে
তুলসী মঞ্চে
অপরূপ রূপ সে যে
আমারি মা যে
ভুবন বিমোহিনী
এত কাছে, তবু নাই তিনি
চরাচর যার রাঙ্গা পায়
বৃথা খুঁজি আর কোথায়
আমাদেরই আঙিনায়।
ফুল দল মিলি রে
বাউলের
এত কাছে তবু নাই চিনি।
No comments:
Post a Comment